ইউএনও’র ওপর হা’মলা: নেপথ্যে ৩ কারণ!

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ইউএনও ওয়াহিদা খানমের ওপর আ’ক্রম’ণের ঘ’টনায় আ’টককৃতরা বলছেন চুরি করতেই এই হা’ম’লা। কিন্তু আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা এবং গোয়েন্দাদের কেউই এটাকে চু’রির ঘ’টনা বলে মেনে নিতে পারছেন না। এটাই হলো তদ’ন্তের মূল চ্যালেঞ্জ।

শুধু চু’রি করতে যুবলীগ নেতারা একজন ইউএনও`র সরকারি বাসভবনে প্রবেশ করবে, এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। ঘ’টনার আদ্যোপান্ত খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। ইউএনও’র ওপর আ’ক্রম’ণের পেছনে তিনটি কারণ থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা। এগুলো অনুসন্ধান করে দেখা হচ্ছে। এই হা’ম’লার পেছনে যে কারণগুলো থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে, সেগুলো হলো-

মা’দকের বিরুদ্ধে ওয়াহিদার অবস্থান: হা’ম’লার প্রথম কারণ হিসেবে সামনে চলে আসছে মা’দকের বি’রুদ্ধে ওয়াহিদার অবস্থানের বিষয়টি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ওয়াহিদা খানম মা’দকবিরোধী বেশ কয়েকটি অ’ভিযান চালিয়েছেন। এই অ’ভিযানগুলোর জন্য যুবলীগ নেতা আসাদুল, জাহাঙ্গীরের মতো লোকেরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল।

তাদের বিরু’দ্ধে স্থানীয় এমপি শিবলী সাদিকও বেশ কয়েকবার অ’ভিযোগ করেছিলেন যে, তারা এলাকায় মা’দক ছড়িয়ে দিচ্ছে। জানা যায় যে, এ ব্যাপারে এমপির সঙ্গে ইউএনও’র বৈঠকও হয়েছিল। মা’দক ব্য’বসায় যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বদ্ধপরিকর ছিলেন ওয়াহিদা। এজন্য তাকে শিক্ষা দিতে এই হামলা চালানো হতে পারে বলে মনে করছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

খাস জমির দখল: ঘোড়াঘাটে যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর এবং স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যানের সমন্বয়ে একটি প্রভাবশালী গ্রুপ গড়ে উঠেছে বলে জানা গেছে। ঘোড়াঘাট এলাকার খাসজমি দখল ছিল তাদের একটা বড় ব্যবসা। এই খাস জমি দখল করে তারা মানুষের কাছে বিক্রি করতো। ওয়াহিদা খানম ঘোড়াঘাটের ইউএনও হয়ে আসার পরে খাস জমির ক্ষেত্রে একটা শৃংখলা ফিরে আসে।

প্রভাবশালীরা যেন খাস জমি দখল করতে না পারে সেজন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন ওয়াহিদা। এটা নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে তার কিছু সমস্যার কথাও জানা যাচ্ছে। খাস জমির কারণেই উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদ, জাহাঙ্গীরদের ব্যবহার করে ইউএনও’র ওপর হা’ম’লা করিয়েছেন কিনা সে ব্যাপারেও স’ন্দেহ দা’না বাঁধছে।

শুদ্ধি অভিযান: সামনের দিনগুলোতে প্রত্যেকটি জেলা উপজেলায় শুদ্ধি অভিযান শুরুর পরিকল্পনা চলছে। আমরা জানি যে, কো’ভিড-১৯ শুরু হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় প্রশাসনকে নেতৃত্বে সামনে নিয়ে আসা হয়েছিল। যেমন- জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল জেলা প্রশাসককে, উপজেলার নেতৃত্বে আনা হয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে।

এই স্থানীয় প্রশাসনের কর্তৃত্বেই এখন সবকিছু চলে। মূলত কো’ভিডের পরই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কর্তৃত্ব সব জায়গায় বেড়ে যায়। তাদেরকে অনিয়ম দু’র্নীতিতে লিপ্ত ব্যক্তিদের একটি তালিকা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। ইউএনওদের বলা হয়েছিল যারা বিভিন্ন অ’পরাধে জড়িত তাদের তালিকা করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে।

এ রকম একটা তালিকায় যুবলীগ বা কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের নাম থাকতে পারে, এ আশংকায় ওয়াহিদা খানমকে ভয় দেখানো বা তাকে একটা শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে হা’ম’লার ঘট’না ঘটানো হতে পারে। গোয়েন্দা সংস্থা কিংবা সাধারণ মানুষ, কেউই বিশ্বাস করতে রাজি নয় যে, চুরি করার জন্য ইউএনও’র ওপর হা’ম’লা হয়েছিল। যদি চুরি করার জন্যই এই হা’ম’লা হয়ে থাকে, তবে কী চুরি হলো? কী খোয়া গেল?

আ’ক্রম’ণকারীরা তেমন কিছুই নিয়ে যায়নি। সবচেয়ে বড় কথা হলো, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি বাসভবনে চুরি করার মতো কোনো মহামূল্যবান জিনিস থাকার কথা নয়। কাজেই চুরির যে কারণটা বলা হচ্ছে সেটা খুবই হাস্যকর। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা এই তিনটি উৎস ধরে ত’দন্ত কাজ চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। খুব শীঘ্রই হা’ম’লার আসল কারণ বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *