ঘুমানোর সময় বালিশের নিচে রাখু’ন এক কোয়া রসুন

মিশরীয়‚ ব্যাবিলনীয়‚ গ্রিক‚ রোমান এবং চৈনিক সভ্যতায় ওষুধ হিসেবে রসুনের ব্যবহারের নিদর্শন পাওয়া গেছে। রসুনের মধ্যে অ্যালিসিনা নামের এক কম্পাউন্ড পাওয়া যায় যা বিভিন্ন রোগ সারাতে সাহায্য করে।

প্রাচীন ইতিহাস দেখলে জানতে পারবেন তখন রসুন কিন্তু শুধু মাত্র বিভিন্ন অ’সুখ সারানোর জন্যই ব্যবহার হতো। রসুন খুব নিউট্রিসা’স‚ কিন্তু এতে খুব কম ক্যালোরি আছে। রসুনের মধ্যে রয়েছে মান্গানেসে, ভিটামিন বি৬, ভিটামিন সি, সেলেনিউম, ফাইবার। এছাড়াও রসুনের মধ্যে পাওয়া যায় ক্যালসিয়াম‚ কপার‚ পটাশিয়াম‚ ফসফরাস‚ আয়রণ এবং ভিটামিন বি১ । শুধু তাই নয় রসুনের মধ্যে আমাদের শরীরে যা দরকার মোটামুটি সবই পাওয়া যায়।

রসুন শুধু রান্নার স্বাদই বাড়ায় না, স্বাস্থ্যের পক্ষেও উপকারি! অনেক জটিল-কঠিন অ’সুখের মোকাবিলা করতে রসুনের জুরি মেলা ভা’র! বালিশের তলায় এক কোয়া রসুন রেখে ঘুমান, ম্যাজিকের মত ফল পাবেন!

বিশেষজ্ঞরা বলেন, রসুনের সংস্প’র্শে থাকলেও অনেক উপকার মেলে। রাতে ঘুমনোর সমায়ে বালিশের তলায় এক কোয়া কাঁচা রসুন রেখে ঘুমোন। হতাশা দূর হবে, নেগেটিভ এনার্জি দূরে গিয়ে জীবন পজেটিভ এনার্জি, খুশি-আনন্দ-সাফল্যে জীবন ভরে উঠবে!

বালিশের নীচে এক কোয়া রসুন রেখে ঘুমোলে বাতের ব্যথায় ভালো ফল পাবেন। হার্টের সমস্যা থেকে শুরু করে যকৃতের সমস্যায় মহৌষোধির মতো কাজ করে রসুন। র’ক্ত বিশুদ্ধ করতে ও ধমণী পরিষ্কার রাখতে রসুন খুবই উপকারী।

এক গ্লাস দুধের মধ্যে এক কোয়া রসুন আর মধু মিশিয়ে খান। বিশেষজ্ঞদের মতে, রসুন অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে।

খালি পেটে এক কোয়া কাঁচা রসুন খেলে র’ক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। রসুনের অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান যা ব্রণ কমাতে বেশ সাহায্য করে। ব্রণর জন্য দায়ী ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে নির্মূল করে। এর জন্য কাঁচা রসুনের একটা কোয়া চিবিয়ে খেতে পারলে ভালো। রোজ খেতে না পারলেও সপ্তাহে তিন চারদিন খান। রসুন খাবার পর ঠান্ডা পানি খান।

এক কোয়া রসুন ও টমেটো মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে ফেলুন। মুখে মেখে ১৫ মিনিট মতো রেখে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২-৩ দিন করুন। এটা ব্ল্যাকহেডস দূর করবে যেমন, সঙ্গে ত্বককেও উজ্জ্বল করবে।

রসুনে আছে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা স্কিনকে সতেজ রাখে। স্কিন এজিং-এর একটা বড় কারণ হল ক্ষতিকর সূর্যরশ্মি। রিঙ্কেল, ফাইন লাইনস, এজ স্পট, ডার্ক স্পট থেকে স্কিনকে দূরে রাখে রসুন। শুধু কাঁচা রসুন ১ কোয়া মধু ও লেবুর সাথে চিবিয়ে খেতে হবে। তা হলেই দেখতে পাবেন রসুনের কেরামতি।

রসুন যেমন চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে, তেমনই অ’তিরিক্ত চুল পড়াও নিয়ন্ত্রণ করে। কয়েকটা রসুনের কোয়া কে’টে নিয়ে স্ক্যাল্পে ঘষুন। বা রস ও করে নিতে পারেন। এই রস সপ্তাহে দু’দিন লাগান। এক মাসের মধ্যেই ফল পাবেন। এ ছাড়া অলিভ অয়েলের মধ্যে রসুন কোয়া ভালো করে ফুটিয়ে সেই তেলটা স্ক্যাল্পে ভালো করে ম্যাসাজ করুন। চুল পড়া বন্ধ হতে বাধ্য।

খুশকি কমাতে অনেক টাকা খরচ করে নানারকম শ্যাম্পু কেনেন। কিন্তু বাড়ির এই সহ’জ উপাদানটি অনেক ভালো যে কোনও খুশকি স্পেশাল শ্যাম্পুর থেকে। কয়েক কোয়া রসুনের রস স্ক্যাল্পে লাগান। এতে চুল পড়াও যেমন কমবে, তেমনই খুশকিও কমবে।

নারকেল তেলের মধ্যে কয়েক কোয়া রসুন ও একটু গোলম’রিচ গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। এবার কম আঁচে ফুটিয়ে নিন। তেল ঠান্ডা হলে এটা ভিজে চুলে লাগান। ২০ মিনিট পর চুল ধুয়ে নিন। চুল থাকবে কালো ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *