এমএ পাশ করেও চাকরি না পেয়ে ট্রেনে হকারি করেন প্রতিবন্ধী যুবক

কোমরের নীচ থেকে কিছু নেই। শরীরটাকে কোনও রকমে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে এগোন। পিঠে কালো রঙের ভারী ব্যাগ। বাঁ হাতে এক গোছা ধূপের বাক্স। ডান হাত ট্রেনের মেঝেতে রেখে শরীরের ভারসাম্য রাখছেন। আর মুখে বলে যাচ্ছেন হাতে ধরা ধূপের গুণাগুন। ট্রেনে হকারি করেই পেট চালান শিবপ্রসাদ মিশ্র। দক্ষিণ-পূর্ব শাখার যে কোনও লোকাল ট্রেনে দেখা মিলবে তাঁর। তবে তিনি অন্য হকারদের থেকে একটু আলাদা। প্রতিবন্ধী যুবক হকার শিবপ্রসাদ সংস্কৃতে এমএ।

রাস্তায় ‘উন্নয়ন’ দাঁড়িয়ে আছে! পঞ্চায়েত ভোটেই তার সাক্ষী থেকেছে পশ্চিমবঙ্গবাসী। গত ৫ বছর স্কুল সার্ভিস কমিশনে কোনও নিয়োগ হয়নি এই রাজ্যে। অন্যান্য সরকারি চাকরির অবস্থাও তথৈবচ। অথচ প্রতি বছর নাকি ‘লক্ষ লক্ষ চাকরি’ হচ্ছে! আর এমএ পাশ শারীরিক প্রতিবন্ধী যুবককে পেট চালাতে হকারি করতে হয় লোকাল ট্রেনে।

মেদিনীপুরের গোপগড়ে বাসিন্দা শিবপ্রসাদ মিশ্র। মাত্র ৩ বছর বয়সে দূর্ঘটনায় কোমরের নীচ থেকে দুটো পা কাটা যায়। বাবার সামান্য উপার্জনে সংসার চলে না। মা সাধারণ গৃহবধূ। বোন উচ্চমাধ্যমিক দেবেন। তাঁর পড়ার খরচ বেড়েছে। তাই বাধ্য হয়েই প্রতিবন্ধী শিবপ্রসাদকে রোজগারের চিন্তা করতে হয়। ৫৬ শতাংশ নাম্বার নিয়ে মাধ্যমিক পাশ করেছিলেন।

স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন ৫২ শতাংশ নাম্বার নিয়ে। ভেবেছিলেন সংসার চালানোর জন্য কোনও একটা চাকরি নিশ্চয় জুটে যাবে! কিন্তু বাস্তব ভিন্ন। চাকরি পাননি কোথাও। শেষে নিজের অবস্থার কথা জানিয়ে সাহায্য চান মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। লাভ হয়নি। পরিবহন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে তাঁর অবস্থার কথা জানিয়েছিলেন। চাকরির বদলে একটি সাইকেল মিলেছে। শেষে সংসার চালাতে মাত্র ২৬ বছর বয়সে লোকাল ট্রেনে ধূপ বেচতে শুরু করেন শারীরিক প্রতিবন্ধী শিবপ্রসাদ।

প্রতিদিন সকালে তিনি গোপগড় থেকে চলে আসেন মেদিনীপুর। পিঠে থাকে ধূপের বাক্স ভর্তি ব্যাগ। হাতেও কয়েকটা ধূপের প্যাকেট নিয়ে শরীর ছেঁচড়ে উঠে পড়েন ট্রেনে। তারপর ‘হাঁটতে হাঁটতে’ এ কামরা থেকে ও কামরা। যান মেচেদা পর্যন্ত। তারপর ফিরে আসেন, আবার যান। হকারি করতে থাকেন বছর ছাব্বিশের যুবক শিবপ্রসাদ। ইচ্ছাশক্তির জোরে প্রতিবন্ধকতাকে হারিয়েছেন। এবার জীবনযুদ্ধে জিততে চান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *